ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিংড়ায় সড়ক সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন কাদাপানির মধ্যে বিটুমিন ব্যক্তিগত গেইটে পিচ সাংবাদিকদের ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদ :

বিপ্লব তালুকদার : নাটোর জেলা প্রতিনিধি :

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিনগ্রাম রানীপুকুর বাজার থেকে শ্রীকোলগামী গ্রামীণ সড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃষ্টির পর সড়কে কাদাপানি ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকা অবস্থায় বিটুমিন ছিটিয়ে কাজ করা, নির্ধারিত সড়কের বাইরে কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ির গেইট ও প্রবেশপথে পিচ ঢালাই এবং প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানি জমে থাকা অবস্থায় বিটুমিন ছিটিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর পরদিন ১ অক্টোবর সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকৌশলীর পরিদর্শনের পরদিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে সড়কে আবারও সংস্কারকাজ চালানো হয়।

তাদের প্রশ্ন, বৃষ্টির পর সড়কের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত না করে কাজ করা হলে সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব ও মান কতটা নিশ্চিত হবে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মূল সড়কের নির্ধারিত কাজের বাইরে কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ির গেইট ও প্রবেশপথে অতিরিক্ত পিচ ও খোয়া ব্যবহার করে ঢালাই করা হয়েছে। কারও কারও দাবি, এসব কাজ অর্থের বিনিময়ে করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি প্রকল্পের নকশা প্রাক্কলন ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কোথায় কতটুকু কাজ করার কথা ছিল এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, তা সরেজমিন পরিমাপ করে দেখা হোক। স্থানীয়দের ভাষ্য, সংস্কারকাজের স্থানে প্রকল্পের ব্যয়, কাজের মেয়াদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের আওতায় কত টাকা ব্যয়ে কী ধরনের কাজ হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই।

এ ছাড়া সংস্কারকাজে ব্যবহৃত খোয়া ও বিটুমিনের মান এবং নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা ব্যবহৃত উপকরণ পরীক্ষা এবং কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সংস্কারকাজের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ এবং কাজের বিষয়ে জানতে গেলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং কর্মরত সিংড়ার সাংবাদিকদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়নকাজের অগ্রগতি, কাজের মান এবং অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্ব। এ ধরনের কাজে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে শুক্রবার সকালে ও বিকেলে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি সিডিউল অনুযায়ী কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং সম্পন্ন কাজ যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিংড়ায় সড়ক সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন কাদাপানির মধ্যে বিটুমিন ব্যক্তিগত গেইটে পিচ সাংবাদিকদের ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ।

আপডেট সময় ০৬:৫২:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বিপ্লব তালুকদার : নাটোর জেলা প্রতিনিধি :

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিনগ্রাম রানীপুকুর বাজার থেকে শ্রীকোলগামী গ্রামীণ সড়কের সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃষ্টির পর সড়কে কাদাপানি ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকা অবস্থায় বিটুমিন ছিটিয়ে কাজ করা, নির্ধারিত সড়কের বাইরে কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ির গেইট ও প্রবেশপথে পিচ ঢালাই এবং প্রকল্পের তথ্যসংবলিত সাইনবোর্ড না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদাপানি জমে থাকা অবস্থায় বিটুমিন ছিটিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুনরায় কাজ শুরু হয়। এর পরদিন ১ অক্টোবর সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকৌশলীর পরিদর্শনের পরদিন শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে সড়কে আবারও সংস্কারকাজ চালানো হয়।

তাদের প্রশ্ন, বৃষ্টির পর সড়কের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত না করে কাজ করা হলে সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব ও মান কতটা নিশ্চিত হবে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মূল সড়কের নির্ধারিত কাজের বাইরে কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ির গেইট ও প্রবেশপথে অতিরিক্ত পিচ ও খোয়া ব্যবহার করে ঢালাই করা হয়েছে। কারও কারও দাবি, এসব কাজ অর্থের বিনিময়ে করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি প্রকল্পের নকশা প্রাক্কলন ও কার্যাদেশ অনুযায়ী কোথায় কতটুকু কাজ করার কথা ছিল এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, তা সরেজমিন পরিমাপ করে দেখা হোক। স্থানীয়দের ভাষ্য, সংস্কারকাজের স্থানে প্রকল্পের ব্যয়, কাজের মেয়াদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের আওতায় কত টাকা ব্যয়ে কী ধরনের কাজ হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই।

এ ছাড়া সংস্কারকাজে ব্যবহৃত খোয়া ও বিটুমিনের মান এবং নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা ব্যবহৃত উপকরণ পরীক্ষা এবং কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে সংস্কারকাজের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ এবং কাজের বিষয়ে জানতে গেলে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং কর্মরত সিংড়ার সাংবাদিকদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, সরকারি উন্নয়নকাজের অগ্রগতি, কাজের মান এবং অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্ব। এ ধরনের কাজে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানতে শুক্রবার সকালে ও বিকেলে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে প্রকল্পের নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি সিডিউল অনুযায়ী কাজের পরিমাণ, ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং সম্পন্ন কাজ যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।