সামুদ্রিক খাতকে জাতীয় উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক, নিরাপদ, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আগামীকাল বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এবারের দিবসটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ঘোষিত ‘নীতিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সামুদ্রিক খাতের উৎকর্ষ অর্জন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনাগত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, দক্ষ নাবিক তৈরি এবং সামুদ্রিক সুশাসন জোরদার করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং উপকূলীয় শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে দেশের নীল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ গঠন এবং সামুদ্রিক খাতকে ঘিরে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি সমুদ্রপথনির্ভর। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং দেশের বিস্তৃত নৌপথ পণ্য ও সেবা পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে সামুদ্রিক সীমানা, নৌপরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ২৯টি সামুদ্রিক কনভেনশনেও বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে নৌপরিবহন খাতে সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী উভয় ধরনের নৌযানের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
‘বাস্তবায়নের বছর’ ২০২৬
২০২৬ সালকে বাস্তবায়নের বছর হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সামুদ্রিক খাতের উন্নয়নে চারটি প্রধান অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
এর মধ্যে রয়েছে—পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মানের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা গড়ে তোলা; স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল লজিস্টিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দর আধুনিকায়ন; হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদ ও প্রতিবেশ রক্ষা; এবং দক্ষ নাবিক তৈরির লক্ষ্যে সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক খাতে উৎকর্ষ কেবল নীতিমালা বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর বাস্তব প্রতিফলন দেশের প্রতিদিনের কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় দেখা যেতে হবে।
তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজ মালিক, নাবিক, সামুদ্রিক পেশাজীবী এবং পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় অগ্রাধিকারকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী নীল অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।























