ভেজালের ভয়? মাত্র কয়েকটি ধাপে ঘরেই বানিয়ে নিন খাঁটি ঘি
বাজারের ঘিতে আসল দুধের উপাদান কতটা আছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। নামী-দামি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামের ঘিতে ক্ষতিকর চর্বি ও কৃত্রিম সুগন্ধি মেশানোর প্রবণতা দেখা যায়। ফলে ঘির মান ও আসল-ভেজাল চেনা নিয়ে ক্রেতাদের উদ্বেগের শেষ নেই।
তবে এই দুশ্চিন্তা দূর করতে পারেন ঘরেই। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে মাত্র কয়েকটি ধাপে তৈরি করতে পারেন শতভাগ খাঁটি ও সুগন্ধি গাওয়া ঘি (Pure Desi Ghee)।
ঘরে তৈরি খাঁটি ঘিয়ের প্রয়োজনীয় উপকরণ
দুধের সর বা মালাই: ৪-৫ কাপ (ফ্রিজে জমানো)
ঠান্ডা পানি বা বরফ: পরিমাণমতো
ঘরে ঘি বানানোর সহজ উপায় ও প্রণালী
১. সর বা মালাই জমিয়ে রাখা: প্রতিদিন ফুটানো দুধের ওপর জমা হওয়া ঘন সর আলাদা শুকনো পাত্রে তুলে ডিপ ফ্রিজে জমিয়ে রাখুন। পর্যাপ্ত সর জমা হলে সাধারণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন।
২. মাখন তৈরি বা মন্থন: জমানো সর ব্লেন্ডার বা ফুড প্রসেসরে নিয়ে সামান্য ঠান্ডা পানি ও বরফ কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করুন। কিছুক্ষণ ব্লেন্ড বা মন্থন করার পর ওপরের অংশে ঘন মাখন জমে উঠবে এবং পানি নিচে থেকে যাবে।
৩. মাখন ধোয়া ও পরিষ্কার করা: ভেসে ওঠা মাখন তুলে অন্তত ৫-৬ বার পরিষ্কার ঠান্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে মাখনে থাকা দুধের অংশ বা সিটা দূর হয়, যা ঘি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৪. ধীর আঁচে মাখন জ্বাল দেওয়া: একটি ভারী তলাবিশিষ্ট পাত্রে বা কড়াইয়ে ধৌত মাখন নিয়ে মাঝারি থেকে কম আঁচে বসিয়ে দিন। মাখন গলে ফেনা উঠবে এবং ধীরে ধীরে পানি শুকিয়ে যাবে।
৫. ঘি প্রস্তুত চেনার উপায়: জ্বাল দিতে দিতে পাত্রের নিচে থাকা অবশিষ্টাংশ বা সিটা হালকা বাদামি বর্ণ ধারণ করবে এবং ওপরে স্বচ্ছ সোনালি রঙের তরল ঘি ভেসে উঠবে। এই অবস্থায় দ্রুত চুলা বন্ধ করে দিন।
৬. ছাঁকন ও সঠিক সংরক্ষণ : ঘি ঘরের তাপমাত্রায় কিছুটা ঠান্ডা হলে সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা সুতি কাপড়ে ছেঁকে নিন। এরপর একটি একদম পরিষ্কার ও শুকনো কাচের বয়ামে রেখে দিন।
ঘি বানানোর বিশেষ সতর্কতা ও টিপস
আঁচ নিয়ন্ত্রণে রাখা: ঘি জ্বাল দেওয়ার সময় কোনোভাবেই অতিরিক্ত আঁচ দেওয়া যাবে না। মাখন পুড়ে গেলে ঘিতে পোড়া গন্ধ চলে আসে।
শুকনো পাত্রের ব্যবহার: ঘি সংরক্ষণের কাচের বয়ামে যেন এক ফোঁটাও পানি না থাকে। শুকনো পাত্রে রাখলে এই ঘি ঘরে বহুকাল ভালো থাকে।


























