ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি ফিরছে, সংকট কাটাতে একাধিক উদ্যোগ

নিজস্ব সংবাদ :

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। কমেছে লোডশেডিং, একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহও বেড়েছে। এতে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে চাপ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল রোববার সকাল ১১টায় দেশে লোডশেডিং ছিল মাত্র ৭২ মেগাওয়াট। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৫২ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট।

দুপুর ২টার দিকে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ১৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৯২৬ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ১৭৪ মেগাওয়াট। এর আগের দিন শনিবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৫৬৮ মেগাওয়াট।

অথচ এর মাত্র ১০ দিন আগে দিনের বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি স্পষ্ট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ

বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৬১৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে এক হাজার ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

দুই সপ্তাহ আগেও এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ২০০ এমএমসিএফডিতে নেমে গিয়েছিল। এতে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সংকটের প্রভাব পড়ে।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

সংকট মোকাবেলায় একাধিক পরিকল্পনা

সরকারের কর্মপরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে এনে শিল্প খাতে ব্যবহারের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের পাশাপাশি পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা।

২০৩০ সালের মধ্যে বাড়তে পারে ১,৪০১ এমএমসিএফডি গ্যাস

পেট্রোবাংলার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় এক হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এরই মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন উৎস অনুসন্ধানে কাজ চলছে। সাইসমিক জরিপের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ভূতাত্ত্বিক কাঠামো শনাক্ত করে সেখানে দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিল্পে গ্যাস দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো

শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে জ্বালানি কেনার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) ছয় হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে ফার্নেস অয়েল কেনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়ে শিল্প খাতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংকট কাটাতে বাড়ছে আর্থিক চাপও

তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া এসব পদক্ষেপের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যয়ও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং এলএনজি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর লোকসান ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেল বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবেলার জন্য দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার ওপরই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি ফিরছে, সংকট কাটাতে একাধিক উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৩:০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। কমেছে লোডশেডিং, একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহও বেড়েছে। এতে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে চাপ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল রোববার সকাল ১১টায় দেশে লোডশেডিং ছিল মাত্র ৭২ মেগাওয়াট। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৫২ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট।

দুপুর ২টার দিকে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ১৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৯২৬ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ১৭৪ মেগাওয়াট। এর আগের দিন শনিবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৫৬৮ মেগাওয়াট।

অথচ এর মাত্র ১০ দিন আগে দিনের বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি স্পষ্ট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ

বিদ্যুতের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৬১৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে এক হাজার ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

দুই সপ্তাহ আগেও এলএনজি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ২০০ এমএমসিএফডিতে নেমে গিয়েছিল। এতে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর সংকটের প্রভাব পড়ে।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

সংকট মোকাবেলায় একাধিক পরিকল্পনা

সরকারের কর্মপরিকল্পনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও রাখা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে এনে শিল্প খাতে ব্যবহারের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের পাশাপাশি পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা।

২০৩০ সালের মধ্যে বাড়তে পারে ১,৪০১ এমএমসিএফডি গ্যাস

পেট্রোবাংলার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি সম্পন্ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় এক হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এরই মধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন উৎস অনুসন্ধানে কাজ চলছে। সাইসমিক জরিপের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় ভূতাত্ত্বিক কাঠামো শনাক্ত করে সেখানে দ্রুত অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিল্পে গ্যাস দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো

শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধের মাধ্যমে জ্বালানি কেনার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) ছয় হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে ফার্নেস অয়েল কেনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়ে শিল্প খাতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংকট কাটাতে বাড়ছে আর্থিক চাপও

তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া এসব পদক্ষেপের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যয়ও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং এলএনজি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর লোকসান ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেল বিক্রিতে বড় ধরনের লোকসান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে সংকট মোকাবেলার জন্য দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার ওপরই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।