ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দখল-ভাঙচুরে চাপে সরকার, জড়িতদের খুঁজছে বিএনপি

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও-কার্যালয়ে হামলা এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি-বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকার বলছে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও দলের কেউ এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় সরকার বিব্রত এবং তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ঢুকে লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনার একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানে একটি সমবায় সমিতির নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে শাহ আলী থানার ওসিকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রাড্ডার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে হামলাকারীদের জড়ো করা, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং এক্সক্যাভেটর ব্যবহারের বিষয়ে কয়েকজনের নাম এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সরকার।

এদিকে ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’তে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় জমি-বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে রাজনৈতিকভাবে দলের কেউ জড়িত কি না, কিংবা কারও ইন্ধন ছিল কি না—তা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশও। ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, দখল ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের অবস্থান—অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় এখন মূল নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। বিশেষ করে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং নেপথ্যে কারও নির্দেশনা বা সহযোগিতা ছিল কি না, সেটি তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা। সরকার জানিয়েছে, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দখল-ভাঙচুরে চাপে সরকার, জড়িতদের খুঁজছে বিএনপি

আপডেট সময় ০২:৪১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপি। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া, ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও-কার্যালয়ে হামলা এবং বিভিন্ন এলাকায় জমি-বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকার বলছে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও দলের কেউ এসব ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় সরকার বিব্রত এবং তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ঢুকে লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনার একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানে একটি সমবায় সমিতির নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে শাহ আলী থানার ওসিকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রাড্ডার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে হামলাকারীদের জড়ো করা, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং এক্সক্যাভেটর ব্যবহারের বিষয়ে কয়েকজনের নাম এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সরকার।

এদিকে ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’তে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় জমি-বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনাতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে রাজনৈতিকভাবে দলের কেউ জড়িত কি না, কিংবা কারও ইন্ধন ছিল কি না—তা অভ্যন্তরীণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশও। ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিক এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, দখল ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের অবস্থান—অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় এখন মূল নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। বিশেষ করে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং নেপথ্যে কারও নির্দেশনা বা সহযোগিতা ছিল কি না, সেটি তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা। সরকার জানিয়েছে, তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।