কম পুঁজিতে বেশি কর্মসংস্থান: শ্রমঘন শিল্পে গুরুত্ব দেবে সরকার
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও সীমিত ভূমির দেশে কম মূলধন বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম শ্রমঘন ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য শ্রমনির্ভর শিল্পের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্পে বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিটাকের ‘কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদনভিত্তিক শিল্পের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে সরকারি উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে বিটাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়াকে তিনি এ কর্মসূচির অন্যতম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বিটাকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্প খাতের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ কর্মজীবনের শেষ ধাপ নয়, বরং এটি পেশাগত জীবনে প্রবেশের একটি ভিত্তি। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলেই শেখার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। প্রযুক্তি ও শিল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের মর্যাদা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার তুলনায় কম নয়।
বিটাকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ এবং ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এম আল মামুন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র ও নিয়োগপত্র তুলে দেন শিল্পমন্ত্রী।

























