ইতালিতে সাধারণ ধর্মঘট: জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও বাজেট নীতির প্রতিবাদে রাজপথে শ্রমিক-শিক্ষার্থীরা
ফাহিম হোসেন মুন্না , নর্থ প্রতিনিধি – ইতালি :
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে বাজেট হ্রাস এবং যুদ্ধ ও সামরিক বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিবাদে গোটা ইতালিজুড়ে বিভিন্ন শহরে শুরু হয়েছে একদিনের সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। দেশের প্রধান ট্রেড ইউনিয়নগুলোর (ইউএসবি) ডাকে আয়োজিত এই ধর্মঘটে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছেন পর্যটন নগরী ভেনিসে শ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিবাসীসহ সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ।
ধর্মঘট আহ্বানকারীদের মূল দাবি- নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধি এবং জনসেবা ও শিক্ষা-গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো।
আন্দোলনকারীদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তামূলক খাতে পর্যাপ্ত বাজেট না রেখে সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
এদিকে, পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলোর সময় রাজধানী রোমসহ দেশের কয়েকটি বড় শহরে সহিংস ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির বর্তমান মেলোনি সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, কট্টোর বাডপন্থী সরকার আন্দোলন দমন ও নিজের দায় এড়াতে তরুণ আন্দোলনকারী এবং অভিবাসী ব্যাকগ্রাউন্ডের তরুণদের নিশানা করছে, যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, আন্দোলনের নামে কোনো প্রকার সহিংসতা ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বরদাশত করা হবে না।
বর্তমানে ইতালিজুড়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক বাজেট নীতি ও অর্থনৈতিক চাপের স্থায়ী সমাধান না হলে এই সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ দীর্ঘ রূপ নিতে পারে এবং আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচন এবং রোম, মিলানো ও নাপলির মতো বড় শহরগুলোর স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
























