ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা মবের শিকার হবেন না: ডা. জাহেদ

নিজস্ব সংবাদ :

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের গণপিটুনি বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে না। বরং প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কখনো ডিসেম্বর, আবার কখনো জুনকে ঘিরে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা উঠছে। এভাবে আলোচনা চলতেই পারে। তবে তিনি দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে এলে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দেশে ফেরার পর আইন অনুযায়ী যা হওয়ার, সেটিই হবে। কোনো ধরনের মব বা আইনবহির্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, এরশাদের পতনের পরও তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সে সময়ও পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াই প্রাধান্য পাবে।

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ

সংবাদ সম্মেলনে একজন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতেও বিচার-পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যক্তির মরদেহের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারকে সমর্থন করা ব্যক্তিদের অনেকেও এ ধরনের আচরণকে সমর্থন করেননি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছেই হবে। যারা মৃত ব্যক্তির মরদেহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সমাজের মানুষের কাছে নিন্দিত হন।

অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের ভূমিকা যা-ই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা উচিত।

সূত্র: সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা মবের শিকার হবেন না: ডা. জাহেদ

আপডেট সময় ০২:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো ধরনের গণপিটুনি বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে না। বরং প্রচলিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কখনো ডিসেম্বর, আবার কখনো জুনকে ঘিরে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা উঠছে। এভাবে আলোচনা চলতেই পারে। তবে তিনি দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে এলে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, দেশে ফেরার পর আইন অনুযায়ী যা হওয়ার, সেটিই হবে। কোনো ধরনের মব বা আইনবহির্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।

অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, এরশাদের পতনের পরও তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেছেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সে সময়ও পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াই প্রাধান্য পাবে।

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ

সংবাদ সম্মেলনে একজন মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতেও বিচার-পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যক্তির মরদেহের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারকে সমর্থন করা ব্যক্তিদের অনেকেও এ ধরনের আচরণকে সমর্থন করেননি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষের বিচার সৃষ্টিকর্তার কাছেই হবে। যারা মৃত ব্যক্তির মরদেহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা সমাজের মানুষের কাছে নিন্দিত হন।

অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়েও আলোচনা হয়।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের ভূমিকা যা-ই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা উচিত।

সূত্র: সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন।