ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদিনায় বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার

নিজস্ব সংবাদ :

সৌদি আরব, ১ অক্টোবর ২০২৬ : সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোটের দাবি, হুথি আন্দোলন মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোর ৫টা ১১ মিনিটে, মদিনার তাইবা (Taibah) বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্র লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বৃহস্পতিবার জানান, হামলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়েছে এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ও ঘটনাস্থলের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তারা হুথিদের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে।

সৌদি জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বা জাতীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রটি একটি বেসামরিক স্থাপনা এবং এটি মসজিদে নববী (Prophet’s Mosque)-সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ কারণে ঘটনাটি বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, মদিনার এই হামলা মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি জোট পবিত্র দুই নগরী এবং সেখানে অবস্থানরত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবিতে হামলার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

তবে সৌদি জোটের এই অভিযোগ হুথিরা প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা-কে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরব এর আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার যে অভিযোগ তুলেছিল, সেটিরও যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এর ফলে মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার দায় নিয়ে সৌদি জোটের দাবি ও হুথিদের অস্বীকৃতি—দুই ধরনের বক্তব্যই সামনে এসেছে।

মদিনার ঘটনার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন আটক ও ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি জোট ওই ঘটনাকে মক্কার দিকে হুথিদের হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। হুথিরাও মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামী পবিত্র স্থাপনা লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে।

মদিনার এই ঘটনা সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর সৌদি ভূখণ্ডে সীমান্তপারের হামলা অনেকটা কমে গেলেও, ২০২৬ সালে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি: একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, সামগ্রিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল রয়েছে। হামলায় হতাহতের বিষয়ে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA), Reuters, Arab News, Al Jazeera এবং Gulf News।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মদিনায় বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমার

আপডেট সময় ০৭:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরব, ১ অক্টোবর ২০২৬ : সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিষয়ক জোটের দাবি, হুথি আন্দোলন মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোর ৫টা ১১ মিনিটে, মদিনার তাইবা (Taibah) বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্র লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি বৃহস্পতিবার জানান, হামলার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়েছে এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ও ঘটনাস্থলের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে তারা হুথিদের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে।

সৌদি জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে এতে মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বা জাতীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রটি একটি বেসামরিক স্থাপনা এবং এটি মসজিদে নববী (Prophet’s Mosque)-সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ কারণে ঘটনাটি বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, মদিনার এই হামলা মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদকে লক্ষ্য করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। তিনি বলেন, সৌদি জোট পবিত্র দুই নগরী এবং সেখানে অবস্থানরত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবিতে হামলার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

তবে সৌদি জোটের এই অভিযোগ হুথিরা প্রত্যাখ্যান করেছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সাবা-কে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিদের একটি সামরিক সূত্র সৌদি অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরব এর আগে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার যে অভিযোগ তুলেছিল, সেটিরও যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

এর ফলে মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার দায় নিয়ে সৌদি জোটের দাবি ও হুথিদের অস্বীকৃতি—দুই ধরনের বক্তব্যই সামনে এসেছে।

মদিনার ঘটনার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন আটক ও ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি জোট ওই ঘটনাকে মক্কার দিকে হুথিদের হামলার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। হুথিরাও মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামী পবিত্র স্থাপনা লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে।

মদিনার এই ঘটনা সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর সৌদি ভূখণ্ডে সীমান্তপারের হামলা অনেকটা কমে গেলেও, ২০২৬ সালে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি: একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, সামগ্রিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সচল রয়েছে। হামলায় হতাহতের বিষয়ে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA), Reuters, Arab News, Al Jazeera এবং Gulf News।