ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালির ভেনিসের বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদ :

ফাহিম হোসেন মুন্না , ইতালি নর্থ প্রতিনিধি :

ইতালির ভেনিসে ‘জুদেক্কা’ নামক দ্বীপটিকে শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং মানুষের বসবাসের উপযোগী একটি এলাকা হিসেবে ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃবৃন্দ। মিউনিসিপ্যালিটি ও পৌর কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার বিকেলে সিনোরা সেরেনা ননোর উদ্যোগে ভেনিসের Archivio Fondazione Luigi Nono- ( আরকেভিউ ফোন্দাসিয়নে লুইজি নোনো ) তে আয়োজিত এই বৈঠকে জুদেক্কার বর্তমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, জুদেক্কা ভেনিসের অন্য এলাকার তুলনায় এখনও অনেক বেশি পারিবারিক ও স্থানীয় মানুষের জীবনকেন্দ্রিক। তবে পর্যটকের চাপ বাড়ায় ধীরে ধীরে এই চিত্র পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়- ‘বাসস্থানের সমস্যা’। কাজের জন্য ভেনিসে আসা অনেক মানুষ- বিশেষ করে ফিনকানতিয়েরি ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কর্মরত ব্যক্তিরা সহজে ‘বাসা’ পান না। এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়- পর্যটকদের কাছে অধিক মূল্যে বাড়ি ভাড়া দেয়ার প্রবণতা।

পৌর কাউন্সিলর আলবের্তো দয়েস্তে জুদেক্কার জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং তরুণদের দ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রকল্প নেয়ার আগে দেখতে হবে- স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তা কতটা উপকারী এবং উপযোগী। শুধু বাণিজ্য বা পর্যটন বাড়ানোর জন্য প্রকল্প গ্রহণ করলে জুদেক্কার নিজস্ব চেহারা নষ্ট হতে পারে।

পৌর কাউন্সিলের প্রার্থী, ইতালিয়ান ভাষা ও নাগরিক শিক্ষার ইনিষ্টিটিউট RIC ( রিক ) একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, আর্কিটেক্ট রিতু মিয়া বলেন, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার অভাব মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। স্বাস্থ্য সেবা, ডে কেয়ার, নার্সারীর মতো সেবাগুলো আস্তে আস্তে দুরে সরে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক। তিনি প্রশাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজেদের দায়িত্ব আরো বেশি গুরুত্বের সঙ্গে এবং নিরপেক্ষ ভাবে পালন করার তাগিদ দেন।

মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর এনরিকো ভিয়ানেল্লো জানান, ‘স্কালেরা’ নামে একটি নগর উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল তার মিউনিসিপ্যালিটি। কারণ, সামাজিক আবাসনের নামে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিলো। বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সামাজিক আবাসন রাখার বিষয়টি তিনি আলোচনায় তুলে আনেন।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, জুদেক্কার আসল শক্তি তার বাসিন্দা, স্থানীয় সংগঠন এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। তাই দ্বীপের উন্নয়ন করতে হলে আগে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও মতামত জানতে হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইতালির ভেনিসের বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৫:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফাহিম হোসেন মুন্না , ইতালি নর্থ প্রতিনিধি :

ইতালির ভেনিসে ‘জুদেক্কা’ নামক দ্বীপটিকে শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং মানুষের বসবাসের উপযোগী একটি এলাকা হিসেবে ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃবৃন্দ। মিউনিসিপ্যালিটি ও পৌর কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার বিকেলে সিনোরা সেরেনা ননোর উদ্যোগে ভেনিসের Archivio Fondazione Luigi Nono- ( আরকেভিউ ফোন্দাসিয়নে লুইজি নোনো ) তে আয়োজিত এই বৈঠকে জুদেক্কার বর্তমান সমস্যা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বলা হয়, জুদেক্কা ভেনিসের অন্য এলাকার তুলনায় এখনও অনেক বেশি পারিবারিক ও স্থানীয় মানুষের জীবনকেন্দ্রিক। তবে পর্যটকের চাপ বাড়ায় ধীরে ধীরে এই চিত্র পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে।

আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়- ‘বাসস্থানের সমস্যা’। কাজের জন্য ভেনিসে আসা অনেক মানুষ- বিশেষ করে ফিনকানতিয়েরি ও বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কর্মরত ব্যক্তিরা সহজে ‘বাসা’ পান না। এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়- পর্যটকদের কাছে অধিক মূল্যে বাড়ি ভাড়া দেয়ার প্রবণতা।

পৌর কাউন্সিলর আলবের্তো দয়েস্তে জুদেক্কার জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং তরুণদের দ্বীপ ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন কোনো প্রকল্প নেয়ার আগে দেখতে হবে- স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তা কতটা উপকারী এবং উপযোগী। শুধু বাণিজ্য বা পর্যটন বাড়ানোর জন্য প্রকল্প গ্রহণ করলে জুদেক্কার নিজস্ব চেহারা নষ্ট হতে পারে।

পৌর কাউন্সিলের প্রার্থী, ইতালিয়ান ভাষা ও নাগরিক শিক্ষার ইনিষ্টিটিউট RIC ( রিক ) একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, আর্কিটেক্ট রিতু মিয়া বলেন, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার অভাব মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। স্বাস্থ্য সেবা, ডে কেয়ার, নার্সারীর মতো সেবাগুলো আস্তে আস্তে দুরে সরে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক। তিনি প্রশাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজেদের দায়িত্ব আরো বেশি গুরুত্বের সঙ্গে এবং নিরপেক্ষ ভাবে পালন করার তাগিদ দেন।

মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলর এনরিকো ভিয়ানেল্লো জানান, ‘স্কালেরা’ নামে একটি নগর উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল তার মিউনিসিপ্যালিটি। কারণ, সামাজিক আবাসনের নামে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিলো। বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সামাজিক আবাসন রাখার বিষয়টি তিনি আলোচনায় তুলে আনেন।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, জুদেক্কার আসল শক্তি তার বাসিন্দা, স্থানীয় সংগঠন এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক। তাই দ্বীপের উন্নয়ন করতে হলে আগে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও মতামত জানতে হবে।