ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চলছে ধ্বংসস্তূপের পাশেই

স্টাফ রিপোর্টার:

শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম

ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের। লুটপাট হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম। তবুও থেমে নেই স্বাস্থ্যসেবা। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে বসে চলছে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচিসহ সীমিত স্বাস্থ্যসেবা।

কেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ। ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। আর গেটের বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে স্থানীয় মায়েরা শিশুদের নিয়মিত টিকা ও চলমান বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইনের টিকা দিচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন।

কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে আসা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়।

তারা বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে দরিদ্র, অসহায় নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না। নারীরা এলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চলছে ধ্বংসস্তূপের পাশেই

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাজধানীর মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের। লুটপাট হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম। তবুও থেমে নেই স্বাস্থ্যসেবা। ধ্বংসস্তূপের পাশের একটি সরু গলিতে অস্থায়ীভাবে বসে চলছে শিশুদের হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচিসহ সীমিত স্বাস্থ্যসেবা।

কেন্দ্রটির মূল ফটক বন্ধ। ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা ভবনের ধ্বংসাবশেষ। আর গেটের বাইরে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে স্থানীয় মায়েরা শিশুদের নিয়মিত টিকা ও চলমান বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইনের টিকা দিচ্ছেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন।

কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে আসা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশধারী ২০০ থেকে ২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পরে এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল কয়েকটি ট্রাকে করে নিয়ে যায়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়।

তারা বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অংশীদারত্বে দরিদ্র, অসহায় নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাব। বর্তমানে ইপিআইর সব টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিবার পরিকল্পনার সব সামগ্রী লুট হয়ে যাওয়ায় সেই সেবা দিতে পারছি না। নারীরা এলে চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছি, গেটে যে সিলগালা করা হয়েছে তা খুলে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা আবার কেন্দ্রের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। বাইরে বসে আর কতদিন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, তা বলা যাচ্ছে না।