পাবনায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য, খোঁজার নাটকেও ছিলেন অভিযুক্ত
পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিককে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার পর শিশুটির সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশে ছিলেন মোস্তফা। এমনকি তাকে খুঁজতে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও অংশ নেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বেনু রায় জানান, রিমান্ডে মোস্তফা পুলিশকে বলেছেন, মাগরিবের নামাজের পর শিশুটিকে একটি মুদি দোকানের পেছনের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর, প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে মোস্তফা দোকান খোলেন এবং শরীরে রক্তের দাগ থাকায় গোসল করেন। রিমান্ডে তিনি আরও দাবি করেছেন, এ ঘটনায় দুজন ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যায় অংশ নিয়েছিলেন।
তবে মামলার অপর আসামি এবং মোস্তফার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। মোস্তফা মরদেহ গোপন করার জন্য সহযোগিতা চাইলে তিনি শুধু মরদেহ সরিয়ে রাখার কাজে সহায়তা করেছিলেন।
নিখোঁজের সাত দিন পর মিলল খণ্ডিত মরদেহ
পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশ মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে।
মুদি দোকানে যাওয়ার পরই ছবি তোলার অভিযোগ
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি তার ভাইয়ের সঙ্গে মোস্তফার দোকানে চিপস কিনতে গিয়েছিল। পুলিশের দাবি, ওই সময় মোস্তফা শিশুটির কয়েকটি আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন।
তদন্তে মোস্তফার মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজন অল্পবয়সি মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এসব ছবি কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে মামলার ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লাশ উদ্ধারের সময়ও ঘটনাস্থলে ছিলেন
পুলিশের দাবি, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পরও মোস্তফা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ রাখেন। শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত বিক্ষোভ ও মানববন্ধনেও তাকে দেখা যায়। এমনকি মরদেহ উদ্ধারের সময়ও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এসআই বেনু রায় বলেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে ডিজিটাল ফরেনসিকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় একজন নাকি একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

























