ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংশোধন নিয়ে আজ দলগুলোর সঙ্গে বিশেষ কমিটির মতবিনিময়, থাকছে না জামায়াত-এনসিপি

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আজ রোববার মতবিনিময়ে বসছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সনদে স্বাক্ষর করা ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এ আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ কয়েকটি দল এতে অংশ নিচ্ছে না।

জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে দুপুর আড়াইটায় বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। আমন্ত্রিত দলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায় থেকে দুজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা।

গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে।

তবে মতবিনিময়ে অংশ না নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল। তাদের বক্তব্য, গণভোটে দেওয়া রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারের জন্য আলাদা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা প্রয়োজন ছিল। সেই পরিষদ না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে তারা গ্রহণ করছে না।

১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও জানিয়েছেন, তারা আমন্ত্রণ পেলেও মতবিনিময়ে অংশ নেবেন না। তাদের অবস্থান হলো, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সরাসরি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। পরে ২৬টি দল ও জোট এতে স্বাক্ষর করে। সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলোর মধ্যে বামপন্থী কয়েকটি দলও রয়েছে। স্বাক্ষরকারী দলগুলোর একটি অংশ বর্তমানে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত।

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কমিটির সভাপতি করা হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হলেও তারা প্রতিনিধি দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের পরিবর্তে ১২ সদস্য নিয়েই কমিটি গঠিত হয়।

বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে এর আগে আশা করা হয়েছিল, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দেবে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এখন বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই কমিটি সংবিধান সংশোধন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ভাষ্য, সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান হবে না। তাদের দল শুরু থেকেই জানিয়েছে, বিশেষ কমিটির পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে।

এদিকে আজকের মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ কমিটির কার্যক্রম আরও আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দলের অনুপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত থাকছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংবিধান সংশোধন নিয়ে আজ দলগুলোর সঙ্গে বিশেষ কমিটির মতবিনিময়, থাকছে না জামায়াত-এনসিপি

আপডেট সময় ০২:৫৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আজ রোববার মতবিনিময়ে বসছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সনদে স্বাক্ষর করা ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এ আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ কয়েকটি দল এতে অংশ নিচ্ছে না।

জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে দুপুর আড়াইটায় বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। আমন্ত্রিত দলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায় থেকে দুজন করে প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা।

গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে।

তবে মতবিনিময়ে অংশ না নেওয়ার অবস্থান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল। তাদের বক্তব্য, গণভোটে দেওয়া রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারের জন্য আলাদা ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা প্রয়োজন ছিল। সেই পরিষদ না করে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে তারা গ্রহণ করছে না।

১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও জানিয়েছেন, তারা আমন্ত্রণ পেলেও মতবিনিময়ে অংশ নেবেন না। তাদের অবস্থান হলো, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সরাসরি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। পরে ২৬টি দল ও জোট এতে স্বাক্ষর করে। সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলোর মধ্যে বামপন্থী কয়েকটি দলও রয়েছে। স্বাক্ষরকারী দলগুলোর একটি অংশ বর্তমানে ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত।

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কমিটির সভাপতি করা হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হলেও তারা প্রতিনিধি দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত ১৭ সদস্যের পরিবর্তে ১২ সদস্য নিয়েই কমিটি গঠিত হয়।

বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে এর আগে আশা করা হয়েছিল, সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দেবে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এখন বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই কমিটি সংবিধান সংশোধন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ভাষ্য, সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি গণভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান হবে না। তাদের দল শুরু থেকেই জানিয়েছে, বিশেষ কমিটির পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে।

এদিকে আজকের মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ কমিটির কার্যক্রম আরও আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দলের অনুপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত থাকছে।