ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজযাত্রীদের ভোগান্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা, এজেন্সিগুলোকে দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদ :

২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে হাজিদের সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা, হয়রানি কিংবা দুর্ভোগ বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হজযাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে যাওয়া ৩০টি অ্যালায়েন্স ও লিড এজেন্সির মধ্যে হজযাত্রী কোটা বণ্টনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। তাদের সেবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারি কিংবা বেসরকারি—যে ব্যবস্থাপনাতেই হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যাবেন, তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো হাজি যেন সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে এজেন্সিগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বা কাজ সম্পন্ন করতে কেউ মন্ত্রণালয়ে এলে অযথা সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। সম্ভব হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। কাউকে অহেতুক হয়রানি বা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরানো হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের বড় একটি অংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। ফলে হজ এজেন্সিগুলো যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় প্রত্যেককে নিজেদের হাজিদের ‘খাদিম’ বা সেবক হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করতে হবে। সুষ্ঠু ও সফলভাবে হজ কার্যক্রম শেষ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, সৌদি সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত এই প্রাথমিক কোটার মধ্য থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ করা অংশ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট হজযাত্রীর কোটা বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হজযাত্রীদের ভোগান্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা, এজেন্সিগুলোকে দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ

আপডেট সময় ০২:৪০:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে হাজিদের সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা, হয়রানি কিংবা দুর্ভোগ বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হজযাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও সর্বাত্মক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে যাওয়া ৩০টি অ্যালায়েন্স ও লিড এজেন্সির মধ্যে হজযাত্রী কোটা বণ্টনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। তাদের সেবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারি কিংবা বেসরকারি—যে ব্যবস্থাপনাতেই হজযাত্রীরা সৌদি আরবে যাবেন, তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কোনো হাজি যেন সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে এজেন্সিগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বা কাজ সম্পন্ন করতে কেউ মন্ত্রণালয়ে এলে অযথা সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। সম্ভব হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। কাউকে অহেতুক হয়রানি বা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘোরানো হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের বড় একটি অংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। ফলে হজ এজেন্সিগুলো যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় প্রত্যেককে নিজেদের হাজিদের ‘খাদিম’ বা সেবক হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করতে হবে। সুষ্ঠু ও সফলভাবে হজ কার্যক্রম শেষ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার জানান, সৌদি সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত এই প্রাথমিক কোটার মধ্য থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ করা অংশ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট হজযাত্রীর কোটা বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।