ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রেনে ফ্রিজ-টিভি-তোশক! জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা দেখাতে রাজধানীতে ডিএসসিসির ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা

নিজস্ব সংবাদ :

রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণের পেছনে মানুষের অসচেতনভাবে বর্জ্য ফেলার প্রবণতাই বড় কারণ—এই বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

শনিবার শাহবাগ এলাকায় ডিএসসিসির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্য শোভাযাত্রা’ নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। ড্রেন পরিষ্কারের সময় উদ্ধার হওয়া ফ্রিজ, টেলিভিশন, সোফা, তোশক, পলিথিন ও বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে নেমে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল, ড্রেনে যত্রতত্র বর্জ্য ফেললে তার কী ভয়াবহ প্রভাব পড়ে তা সরাসরি নাগরিকদের সামনে তুলে ধরা।

শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে মাসিক পরিচ্ছন্নতা দিবস কর্মসূচিরও সূচনা করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না; নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একটি পলিথিন ব্যাগ বা পুরোনো তোশকও ড্রেনের প্রবাহ বন্ধ করে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা নিজেরা সচেতন না হলে নগরীকে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব হবে না।”

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, পূর্বে স্থাপিত অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার পাত্র রাখার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে আরও ঘোষণা দেওয়া হয়, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার সব ওয়ার্ডে মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেন পরিষ্কার অভিযান পরিচালিত হবে। বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার এবং অবহেলিত এলাকাগুলোকে পরিচ্ছন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং নগরীতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। তিনি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

পরে শোভাযাত্রাটি শাহবাগের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীরা পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন, যেখানে জলাবদ্ধতার কারণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুর রহমান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ড্রেনে ফ্রিজ-টিভি-তোশক! জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা দেখাতে রাজধানীতে ডিএসসিসির ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রা

আপডেট সময় ০২:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর জলাবদ্ধতা ও পরিবেশদূষণের পেছনে মানুষের অসচেতনভাবে বর্জ্য ফেলার প্রবণতাই বড় কারণ—এই বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী এক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

শনিবার শাহবাগ এলাকায় ডিএসসিসির উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্য শোভাযাত্রা’ নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। ড্রেন পরিষ্কারের সময় উদ্ধার হওয়া ফ্রিজ, টেলিভিশন, সোফা, তোশক, পলিথিন ও বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে নেমে আসেন। উদ্দেশ্য ছিল, ড্রেনে যত্রতত্র বর্জ্য ফেললে তার কী ভয়াবহ প্রভাব পড়ে তা সরাসরি নাগরিকদের সামনে তুলে ধরা।

শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে মাসিক পরিচ্ছন্নতা দিবস কর্মসূচিরও সূচনা করা হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না; নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একটি পলিথিন ব্যাগ বা পুরোনো তোশকও ড্রেনের প্রবাহ বন্ধ করে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা নিজেরা সচেতন না হলে নগরীকে দূষণমুক্ত রাখা সম্ভব হবে না।”

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, পূর্বে স্থাপিত অনেক ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার পাত্র রাখার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে আরও ঘোষণা দেওয়া হয়, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার সব ওয়ার্ডে মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেন পরিষ্কার অভিযান পরিচালিত হবে। বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার এবং অবহেলিত এলাকাগুলোকে পরিচ্ছন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে আবদুস সালাম বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং নগরীতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ প্রয়োজন। তিনি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

পরে শোভাযাত্রাটি শাহবাগের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অংশগ্রহণকারীরা পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন, যেখানে জলাবদ্ধতার কারণ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খাইরুর রহমান, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।