রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্তের পূর্ণ ক্ষমতা তারেক রহমানের হাতে দিল বিএনপি
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ এবং এ–সংক্রান্ত সব ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অবস্থা, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গ।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর দলের পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানই নেবেন।
পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে যে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা করতে পারে। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। তবে একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে অধিবেশনের তারিখ নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, বিএনপি চলতি বছরের শেষ ভাগ অথবা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সে অনুযায়ী দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।























